ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রভাব
দ্য বাংলাদেশ ন্যারেটিভ
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংকটে পড়লে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির পথ বাধাগ্রস্ত হয়।
*** বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি মজুদ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান নিচের তুলনামূলক বিশ্লেষণে তুলে ধরা হলো:
জ্বালানি মজুদ: দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (২০২৬)
নিচে একটি তুলনামূলক সারণি দেওয়া হলো যা বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা (কত দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম) প্রদর্শন করে:
| বাংলাদেশ | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ১৫ – ৩০ দিন | ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, অকটেন ৩১ দিন। অধিকাংশ আমদানি নির্ভর। |
| ভারত | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ৭৪ দিন | কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR) ও রিফাইনারি মিলিয়ে বিশাল মজুদ। |
| পাকিস্তান | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ১৫ – ২০ দিন | অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মজুদ বাড়ানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। |
| শ্রীলঙ্কা | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ২০ – ২৫ দিন | ২০২২ সালের সংকটের পর বর্তমানে মজুদ কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। |
| জাপান | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ২৫৪ দিন | উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী মজুদ। |
| দক্ষিণ কোরিয়া | জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা ২০৮ দিন | কৌশলগত কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি জমা রাখে। |
***বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের অবস্থান
- বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) এবং পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুদ প্রায় ১৪-১৫ দিনের এবং অকটেনের মজুদ প্রায় ৩০ দিনের মতো আছে। এলএনজি (LNG) এবং কয়লার মজুদও খুব সীমিত সময়ের জন্য (প্রায় ১৫-২০ দিন)।
- কেন আমরা ঝুঁকিতে: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৬৫-৭০% আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
- আদর্শ মজুদ কত হওয়া উচিত: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এর পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো দেশের অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা উচিত যাতে যেকোনো আকস্মিক যুদ্ধ বা সরবরাহ সংকটে অর্থনীতি সচল থাকে। বাংলাদেশ এই লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।
***উত্তরণের উপায় ও বর্তমান পদক্ষেপ
১. রেশনিং: সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ (যেমন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগে বন্ধ করা, রেশনিং) নিয়েছে।
২. বিকল্প উৎস: মালয়েশিয়া, চীন বা সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত তেল আনার চেষ্টা চলছে যা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে আসতে পারে।
৩. কৌশলগত রিজার্ভ: ভারতে যেমন মাটির নিচে বড় বড় ট্যাংক (SPR) আছে, বাংলাদেশেও তেমন দীর্ঘমেয়াদী স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানো জরুরি।
দ্রষ্টব্য: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

‘নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নামে মামলাকারী নেতাকে শোকজের পর বিএনপি কে ধন্যবাদ জানালেন পাটোয়ারী’
ওসমান হাদি হত্যার আসামী ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার : এসটিএফ
বেগম খালেদা জিয়া সহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরুষ্কার
নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তুলে ধরলেন আসিফ মাহমুদ
ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ- এমানুয়েল
মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যাওয়ার আহবান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রভাব 